রুফটপ সোলারে নতুন প্রণোদনা, গ্রিডে বিদ্যুৎ দিলে ইউনিটপ্রতি ১০.৫০ টাকা
নিজের ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে তিন বছর পর্যন্ত নির্ধারিত দামে মূল্য পাওয়ার সুযোগ
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। ব্যাটারিসহ রুফটপ সোলার ব্যবস্থা স্থাপন করে নিজস্ব ব্যবহারের পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে প্রতি ইউনিটের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ১ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
কেন ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা ৫০ পয়সা?
বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান বাজারদর ও বিভিন্ন দরপত্রের মূল্য বিবেচনায় ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ ব্যয় প্রতি ইউনিট ৮ টাকা ধরা হয়েছে।
এর সঙ্গে ২০ শতাংশ মুনাফা এবং ১১.২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যুক্ত করে গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা।
এ ক্ষেত্রে উৎপাদক কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারলে সেই সাশ্রয়কৃত অর্থও প্রণোদনা হিসেবে পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
উদাহরণ হিসেবে, কোনো উৎপাদক যদি প্রতি ইউনিট ৯ টাকা ব্যয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করেন, তাহলে নির্ধারিত ১০ টাকা ৫০ পয়সার সঙ্গে অতিরিক্ত ১ টাকা ৫০ পয়সা প্রণোদনা হিসেবে পাবেন।
কারা পাবেন এই সুবিধা?
‘নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫’ অনুযায়ী, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে।
নিজস্ব ব্যবহারের পর উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহকারী গ্রাহকেরা এ সুবিধার আওতায় আসবেন। তারা ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত গ্রিডে সরবরাহ করা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে মূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
তবে নির্ধারিত সময়সীমার পর স্থাপন করা নতুন সিস্টেমের ক্ষেত্রে এই বিশেষ প্রণোদনা কার্যকর হবে না।
কীভাবে দেওয়া হবে টাকা?
সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের তথ্য সংরক্ষণ করবে এবং জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের পরিমাণ হিসাব করবে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের মূল্য ও প্রণোদনার হিসাবও রাখা হবে।
প্রণোদনার অর্থ গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব অথবা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে পাঠানো হবে। নগদ অর্থে প্রণোদনা দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না।
যন্ত্রপাতিতে মানদণ্ড বাধ্যতামূলক
রুফটপ সোলার ব্যবস্থা স্থাপনে ব্যবহৃত সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার, মিটারসহ সংশ্লিষ্ট সব যন্ত্রপাতি বিএসটিআই এবং টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড অনুযায়ী হতে হবে।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ বিভাগের ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার’ থেকে কর্মসূচির বিষয়ে নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তার জন্য গ্রাহকেরা সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কার্যালয়েও যোগাযোগ করতে পারবেন।
বিদ্যুৎ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এই বিশেষ প্রণোদনা কর্মসূচি কার্যকর হয়েছে।

