বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে যাত্রা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি), এবং পরে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লিডসে অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন—এই হলো কারিশমা চৌধুরীর শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবনের পথচলার চিত্র, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নানা অর্জনে সমৃদ্ধ।

প্রখ্যাত প্রকৌশলী ও শিক্ষাবিদ প্রয়াত অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর কন্যা কারিশমা ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। স্কুলজীবনে আবৃত্তি, কুইজ ও চিত্রাঙ্কনসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তিনি পুরস্কার অর্জন করেন।

১৯৯৬ সালে উচ্চমাধ্যমিকের পর কারিশমা বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। পরবর্তী সময়ে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এমআইটিতে যান। সেখানে তিনি ট্রান্সপোর্টেশন বিষয়ে মাস্টার্স এবং সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও কর্মজীবন

পিএইচডি গবেষণার সময় তাঁর কাজ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায় এবং তিনি Gordon Newell Best Dissertation Award অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি তিনি IUCN-এ রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করেন। এমআইটিতে দীর্ঘ সময় রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি কেমব্রিজ সিস্টেম্যাটিকস ইনকর্পোরেটেডের রিসার্চ অ্যানালিস্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি এমআইটিতে পোস্টডক্টরাল রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট ও ভিজিটিং অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর এবং র‍্যান্ড কর্পোরেশনে অ্যানালিস্ট হিসেবে কাজ করেন।

বাংলাদেশে ফিরে তিনি বুয়েটে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন, যা তাঁর একাডেমিক কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লিডসে লেকচারার ও অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি প্রতিষ্ঠানটির Professor and Chair in Behaviour Modelling হিসেবে কর্মরত আছেন।

গবেষণা ও নেতৃত্ব

গবেষণার ক্ষেত্রেও কারিশমা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছেন। তিনি UKRI Future Leaders Fellowship অর্জন করেছেন এবং দ্য অ্যালান টিউরিং ইনস্টিটিউটের টিউরিং ফেলো হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া তিনি ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর ট্র্যাভেল বিহেভিয়ার রিসার্চ (আইএটিবিআর)-এর চেয়ারপারসন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

কারিশমার বর্তমান একাডেমিক কাজ মূলত পরিবহন ও মানুষের চলাচল-সংক্রান্ত আচরণগত মডেলিং এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণাকে ঘিরে। তাঁর শিক্ষা, গবেষণা ও শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা একদিকে যেমন বাংলাদেশি প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক একাডেমিয়ায় বাংলাদেশি গবেষকদের উপস্থিতিরও একটি দৃষ্টান্ত।

সম্প্রতি বাংলাদেশে অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর স্মরণে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তাঁর কন্যা অধ্যাপক কারিশমা চৌধুরীর উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে এমআইটি, এরপর গবেষণা ও শিক্ষকতার মাধ্যমে লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক—কারিশমা চৌধুরীর পথচলায় শিক্ষা, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক একাডেমিক ক্যারিয়ারের এক দীর্ঘ ধারাবাহিকতা রয়েছে।