শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চাকধ গ্রামের বাসিন্দা ইউনুছ মাদবর। প্রতিদিন তিনি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সামনে ছোট্ট একটি ঝুড়িতে বাদাম নিয়ে বসেন। বয়সের সঙ্গে শরীরের শক্তি কমেছে, হারিয়েছেন চোখের দৃষ্টিও। এক চোখ পুরোপুরি অন্ধ, অন্য চোখেও অল্প দেখতে পান। তবুও জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন বাদামের ঝুড়ি নিয়ে বসতে হয় তাকে।

ঘরে অসুস্থ স্ত্রী মনোয়ারা বেগম। নিজেদের বয়স ও অসুস্থতার সঙ্গে সংসার চালানোর চিন্তাও যেন তাদের নিত্যসঙ্গী। এক ছেলে ও এক মেয়ে থাকলেও মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলেও নিয়মিত খোঁজ নেন না। ফলে জীবনের শেষ বয়সেও অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে সংসারের দায়িত্ব টেনে চলেছেন ইউনুছ। বাদাম বিক্রি করে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়েই মেটাতে হয় দুজনের নিত্যদিনের প্রয়োজন।

দীর্ঘদিনের সংগ্রামপ্রায় আট দশক ধরে স্কুলের সামনে বসে জীবিকার পথ বেছে নিয়েছেন ইউনুছ। তার দীর্ঘ জীবনের সংগ্রামের কথা জানেন স্থানীয় অনেকেই। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টাও করেন কেউ কেউ।

এক চোখের আলো নিভে গেছে, অন্য চোখেও পৃথিবীটা ঝাপসা। শরীরও আর আগের মতো সায় দেয় না। তবুও জীবনযুদ্ধ থামেনি ইউনুছ মাদবরের। স্কুলের সামনে ছোট্ট সেই বাদামের ঝুড়িটিই এখন তার বেঁচে থাকার অবলম্বন। বয়সের কাছে শরীর হার মানলেও অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে এখনো হার মানেননি ৯১ বছরের এই মানুষটি